মোঃ খাইরুল ইসলাম, গাজীপুর প্রতিনিধি

একটি কোলে আলো করে আসা শিশুর প্রথম কান্নার আওয়াজ হওয়ার কথা ছিল একটি পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। নতুন অতিথির আগমনে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের একটি পরিবার। কিন্তু জৈনা বাজারের আনোয়ারা হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ওঠা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সেই আনন্দকে পরিণত করেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠায়। গত ১৪ দিন ধরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন প্রসূতি সাথী আক্তার ও তার নবজাতক সন্তান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই প্রসববেদনা নিয়ে সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৫ হাজার টাকায় সিজারিয়ান অপারেশনের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে। কিন্তু পরে সিজার না করে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চালানো হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে অদক্ষ নার্স ও স্টাফদের মাধ্যমে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং নবজাতকের মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। অবস্থার অবনতি হলে মা ও শিশুকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মা ও নবজাতক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের মতে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় প্রসূতির ভাই শাকিল আহমেদ শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের ১৪ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এ ধরনের কোনো রোগী আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
