সাংবাদিক মুহাম্মদ মুহসিন

প্রতীকের প্রেমে উন্মাদ, কুরআনের বিধানে উদাসীন!
মতামত | সাংবাদিক মুহসিন
আজকাল সমাজের এক শ্রেণির মানুষকে কালেমার পতাকা নিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখা যায়। পতাকা উড়ানো, ছবি পোস্ট করা, স্লোগান দেওয়া—এসব নিয়েই যেন তাদের ব্যস্ততা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলাম কি শুধু একটি প্রতীক, নাকি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা?
যে কুরআনকে মুসলমানরা সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনবিধান বলে বিশ্বাস করে, সেই কুরআনের আইন, ন্যায়বিচার, সততা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কতজনকে সোচ্চার দেখা যায়? যেখানে ইসলামের মৌলিক আদর্শ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে অনেকেই নীরব। অথচ প্রতীক নিয়ে আবেগ প্রকাশে তাদের কোনো কমতি নেই।
কালেমার পতাকা অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু পতাকার মর্যাদা তখনই অর্থবহ, যখন তার প্রতিনিধিত্ব করা আদর্শকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু প্রতীককে সামনে রেখে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও বিধানকে আড়াল করা হলে, তা ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বার্তাকে সংকুচিত করে ফেলে।
আজ প্রয়োজন আবেগের পাশাপাশি আত্মসমালোচনার। আমরা কি সত্যিই কুরআনের শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার পক্ষে দাঁড়াচ্ছি, নাকি শুধু প্রতীক নিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করছি?
প্রতীকের প্রতি ভালোবাসা প্রশংসনীয়, কিন্তু ইসলামের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে কুরআনের আদর্শ বাস্তবায়নে। পতাকা উড়ানো সহজ; কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা অনেক কঠিন। আর সেই কঠিন দায়িত্ব থেকে দূরে সরে গিয়ে শুধু প্রতীক নিয়ে মাতামাতি করলে, ইসলামের প্রতি ভালোবাসার দাবি পূর্ণতা পায় না।
পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা থাকুক, কিন্তু কুরআনের বিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা হোক তার চেয়েও বেশি।
